সম্প্রতি হিন্দুরা যে হুংকার দিয়েছে এদেশের সব জমি নাকি তাদের

মুসলমানদেরকে গাইবান্ধা থেকে উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছে

এর বিপরীতে মুসলমানদের থেকে সেই অর্থে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে না, এক অর্থে তারা যেন নতমস্তকে মেনে নিচ্ছে এই অপবাদ

কারণ মুসলমানদেরকে সাতচল্লিশে চূড়ান্ত বঞ্চিত করার পরও, ক্ষীর মাখন চূড়ান্ত পর্যায়ে খাওয়ার পরও মিডিয়াতে, লেখালেখিতে প্রচার করা হয়েছে হিন্দুদেরটা নাকি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সাথে রয়েছে বঙ্গভিটার মতো প্রোপাগাণ্ডা পেজ (পেজের মালিক বাংলাদেশেই সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত)।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, মুসলমানদের দেয়া হয়েছে ‘পোকায় কাটা পাকিস্তান’

ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান লিখে সার্চ দিন, দেখবেন সাতচল্লিশের আগে ব্রিটিশরা ধর্মের ভিত্তিতে গোটা ভারতকে তিনভাগে ভাগ করেছিল, A, B এবং C

A ভাগ ভারতের মধ্যাংশে, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা যেটি।

B ভাগ হচ্ছে বর্তমানের পাকিস্তানের এলাকাটি, C ভাগ হলো বাংলা ও আসাম। যেগুলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ।

কিন্তু নেহরুর বিছানায় বউ বর্গা দেয়া মাউন্টব্যাটেন বলল, মুসলমানরা সেক্যুলার নয়, তারা সাম্প্রদায়িক। তাই B আর C অংশ পুরোটা মুসলমানদের দেয়া যাবে না (তবে A কিন্তু হিন্দুরা পুরোটাই পাবে!)।

এরপর রেডক্লিফকে দিয়ে B আর C কে এমনভাবে ভাগ করা হল, যেন ঐসব জায়গার বন্দর, শহর আর মূল গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো হিন্দুদের পাতে যায়

যেমন কলকাতা পূর্ব পাকিস্তানকে দেয়া হয়নি, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদও দেয়া হয়নি যেন পদ্মা নদীর নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাতে না থাকে (এ কারণে পরবর্তীতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হয়েছিল)

পশ্চিম পাকিস্তানে মুসলিম নেতৃত্ব শক্তিশালী ছিল বলে লাহোরটা তারা রক্ষা করতে পারলেও, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলাটি পাকিস্তানকে দেয়া হয়নি। কারণ ফিরোজপুরে ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগার। 

এভাবে সব মূল মূল শহর বন্দর থেকে বঞ্চিত করে পাকিস্তানের মানচিত্র দেয়া হয়েছিল বলেই জিন্নাহ এটিকে বলেছিলেন ‘পোকায় কাটা পাকিস্তান’।

এর মধ্যে সবচেয়ে পোকায় কাটা অংশটি ছিল C অঞ্চল বা পূর্ব পাকিস্তান।  তার ভাগে কিছুই পড়েনি, একটা শহর কিংবা একটা বন্দরও না। ঢাকা ছিল তখন একটা গ্রাম, ঢাকায় অফিস ভবন না থাকায় সাতচল্লিশের পর মাঠে তাবু টানিয়ে কাজ করতে হয়েছিল সরকারি চাকুরেদের।

এবার হিসাব করুন, হিন্দুরা কি নিজেদের জমিদারি ছেড়ে ‘চোখের পানিতে ভেসে’ পূর্ব বাংলা ত্যাগ করেছিল? যেমনটি বঙ্গভিটা নামক প্রোপাগাণ্ডা পেজগুলো ছড়িয়ে থাকে?

তারা তো গিয়েছিল পোড়ামাটি নীতির অংশ হিসেবে কাবোচাদোরা!

যে এই পূর্ববঙ্গকে কেটেকুটে এমনভাবে পঙ্গু করা হলো, যে এখানে তোরা মুসলমানরা খেয়ে পড়ে থাকতে পারবিনা। মাছের মাথাটা, ল্যাজাটা, ক্ষীরটা, দুধের সরটা নিয়ে আমরা হিন্দুরা ভারতে গেলাম, তোরা মুসলমানরা পূর্ব পাকিস্তানে না খেয়ে মর!

তাই যখন কোন সক্রিয় বন্দর না থাকায় ভারতকে বলা হয়েছিল ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দরটি ব্যবহার করতে দেয়া হোক

তখন ভারত বলেছিল ৬ ঘণ্টার জন্যও ব্যবহার করতে দেয়া হবে না

কিন্তু সেই অবস্থা বেশিদিন থাকে নি

পূর্ব পাকিস্তান এমন অভাবনীয় উন্নতি করতে শুরু করল, তার সামনে কলকাতা থেকে শুরু করে গোটা ভারত ম্রিয়মান হয়ে গেল

তখন হিন্দুরা বলা শুরু করল, এই পূর্ব পাকিস্তানের জমির মালিক হিন্দুরা!

আর পূর্ব পাকিস্তানের কাবোচাদো অর্ধ মুসলমানদের এমন বৈষম্যের টনিক খাওয়ানো হলো, সাথে বাঙ্গালিত্বের গঞ্জিকা, তারা নিশ্চিত ধ্বংস থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে রক্ষা করা পাঞ্জাবি আর বিহারীদের মনে করতে লাগলো নিজেদের শত্রু।

আর যেই হিন্দুরা তাদেরকে সাতচল্লিশে পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়েছিল, তাদের সম্মুখে তারা অপরাধবোধে ভুগতে লাগলো! বাঙালি মুসলমানরা তাদের ভাগের জমি কেড়ে নেয়া হিন্দুদের সামনে উল্টো নিজেদেরকে অপরাধী ভাবতে লাগলো। 

এদেশের মুসলমানদের চিন্তার কি দৈন্যদশা!

অথচ হিন্দুরা কিন্তু সরাসরি মুসলমানদেরটা কেড়ে নিয়েই সেটা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে থাকে

ভারতের কলকাতায় বস্তি এলাকায় মুঘল সম্রাটের বংশধরেরা বসবাস করে, সেই পরিবারটির ছবি ফেসবুক টুইটারে দিয়ে হিন্দুরা অনলাইনে ঠাট্টা তামাসা করে থাকে

আর মুসলমানরা গাইবান্ধার হরিদাসের মতো শুয়োর চড়ানো ডোমকে সমাজে জায়গা দেয়, সে লোকদেখানো ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান মেয়েকে খাটে তোলে, ফের আবার হিন্দু হয়ে ১০ তলা সমান মূর্তি তৈরী করে পলাশবাড়ী মুসলমান উচ্ছেদের হুঙ্কার দেয়

হিন্দুরা মুঘল রাজার বংশধরদের দারিদ্র্যে নিপতিত করে গর্ব করে

আর মুসলমানরা ব্রিটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে মুসলমানদের জমি কেড়ে নেয়া হিন্দু ব্রাহ্মণ জমিদারও নয়, বরং সেই জমিদারের অধীনে যেই নমশূদ্র লাঠিয়ালগুলো রাখা হতো মুসলমান পেটানোর জন্য, সেগুলোর সামনে লজ্জায় অবনত হয়ে আছে!

কারণ যেই কথিত জমিদারগুলো ছিল, সেগুলো সাতচল্লিশেই কলকাতায় চলে গিয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে আছে যেগুলো, সেগুলো সব অচ্ছুত নমশূদ্র চাঁড়াল ডোম। এগুলো কলকাতায় গেলে সমাজে জায়গা পাবে না বলে বাংলাদেশে পড়ে আছে। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের মুসলমানদের মতো এতো নতজানু গোলাম তারা কোথায় পাবে!

হিন্দুরা মুসলমানদের রাজা বাদশাদের বংশধরদের ঘেটোকরণ করে, আর বাঙ্গালি মুসলমানরা হিন্দুদের যে সবচেয়ে নমশূদ্র নিকৃষ্ট শ্রেণীটি, তাদের মাথায় তুলে রাজাকরণ করে!

এরা এখন প্রকাশ্যে হুঙ্কার দিচ্ছে মুসলমানদের জায়গা ছেড়ে দেয়ার!

কে বলেছে বাঙালি মুসলমান বীরের জাতি!

এতোটা নীচ হীন জাতি গোটা মানবজাতির ইতিহাস ঘেঁটে আপনি খুঁজে পাবেন না।

Next
This is the most recent post.
Previous
Older Post

Post a Comment

 
Top